চাঁদপুর

চাঁদপুরে ইলিশ আড্ডা

প্রকাশ : 11 ডিসেম্বর 2011, রবিবার, সময় : 21:21, পঠিত 1301 বার

নদীর নাম ডাকাতিয়া। গ্রামের নাম ইসলামপুর গাছতলা। ডাকঘর দারুচ্ছালাম। সবুজ গাছগাছালিতে ভরা এ গ্রাম। গাছগাছালিতে নানা প্রজাতির ছোট-বড় অনেক পাখির আবাসও রয়েছে। শান্ত-সবুজ এ গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী। এক সময় গাছতলা গ্রামের মানুষ এ নদীর খেয়া পার হয়ে শহরে যেতেন। এখন খেয়া পারাপার নেই। কারণ খেয়াঘাটের পাশ দিয়েই সেতু হয়েছে। তাই খেয়াঘাট এখন শান্ত। তবে গ্রামের মানুষ এখনও খেয়াঘাটে আসেন গোসলসহ তাঁদের নানা কাজে বা অবসর কাটাতে। কারণ খেয়াঘাটে আছে মাঝারি বয়সের একটি বটগাছ, বসার জন্য বাঁশের মাচা, একটি চায়ের দোকান আর একটু নামাজের জায়গা। সব মিলিয়ে ছায়া-শীতল পরিবেশ। ডাকাতিয়া নদীর এই খেয়াঘাটেই বসেছে আমাদের ইলিশ আড্ডা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদি ইউনিয়নের গাছতলা গ্রামের খেয়াঘাটে ষষ্ঠবারের মতো এই আড্ডার আয়োজন করে স্থানীয় নানুপুর গ্রামের গাজী আবদুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরি। আড্ডা বসে নয় অক্টোবর।
আড্ডায় যোগ দিতে আট অক্টোবর রাতে সদরঘাট থেকে এমভি রফরফ লঞ্চে আমরা যাত্রা করি। ভোরে লঞ্চ ভিড়ে ইচলী। সেখান থেকে গাছতলার খেয়াঘাটে যাই। যেতে যেতে সকাল হয়। আমরা জড়ো হই খেয়াঘাটে। ডাকাতিয়ার বাঁকে তখন নতুন দিনের সূর্য উঁকি দেয়। আর তার সঙ্গেই সূচনা হয় আমাদের ইলিশ আড্ডা।
সাদা পায়রা উড়িয়ে একযোগে আড্ডার উদ্বোধন করেন প্রকৃতিপ্রেমী লেখক ফারুখ আহমেদ, সকালের খবরের স্টাফ রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু, আমার দেশের সাব এডিটর আফরিন জাহান, ছবির হাট এডিটিং মিডিয়ার নির্বাহী এস এ শামীম, অমিত রাহমান লিংকন, ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এস এম মিজান, ছড়াকার আদিত্য রুপু, আবিদ আজম, আলোকচিত্রী, মুসলিমা সেতু, লেখিকা মাসুদা লাবনী, আমাদের কুমিল্লার দাউদকান্দি প্রতিনিধি শরিফুল আলম, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য ওমর শাহাদাত, খুলনার অতিথি হুমায়ুন কবির, ছোট্ট আড্ডাবাজ সিয়াম ও স্থানীয় অতিথিরা।
উদ্বোধনের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে ফারুখ আহমেদ বলেন, সৃজনশীল আড্ডার মধ্যেই বেরিয়ে এসেছে অনেক ভালো কাজের পথ। তেমন পথের খোঁজই হোক ইলিশ আড্ডার মূল লক্ষ। তারপর সবাই ক্যানভাসে মন্তব্য লিখেন।
মন্তব্যের পর অতিথিরা ইলিশ আড্ডার টি-শার্ট ও স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। এরপর অতিথিরা আসেন ইসলামপুর গাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাজা এনায়েতউল্লাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমীতে। ইলিশ আড্ডা উপলক্ষে এসব বিদ্যালয়ে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীসহ অংশগ্রহণকারী সবাইকে পুরস্কার হিসেবে বই ও সনদপত্র দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণ শেষে অতিথিরা আবার আসেন খেয়াঘাটে। এখানে স্থানীয় শিশুদের অংশগ্রহণে মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ডাকাতিয়া নদীতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও অতিথিদের অংশগ্রহণে  
সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ডাকাতিয়ায় গোসল শেষে দুপুরে হয় ইলিশ ভোজ। ইলিশের ভর্তাসহ ইলিশ দিয়ে নানা পদের মজাদার রান্না করেছেন রিনা দেওয়ান। তবে এবার তাজা ইলিশের স্বাদ পাওয়া যায়নি। কারণ আমরা যখন ইলিশ আড্ডা করছি, তখন নদীতে ইলিশ ধরা নিষেধ ছিলো। তাই আমরা আগেই ইলিশ কিনে রেখে ছিলাম।
ইলিশ ভোজের পর ডাকাতিয়া পাড়ে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো। আড্ডা আর খেলাধুলার ফাঁকে চলতে থাকে দেশীয় ফলাহার আর হাফেজ বোরহান উদ্দিন দেওয়ানের দোকানের গরুর দুধের চা-মালাই খাওয়া। সত্যিই এই চায়ের স্বাদ অসাধারণ।
এভাবেই কাটে ইলিশ আড্ডার সারাদিন। সব শেষে আড্ডায় আসা সবাইকে ধন্যবাদ জানান হাফেজ বোরহান উদ্দিন দেওয়ান। ডাকাতিয়ায় সূর্যাস্থ দেখে সন্ধ্যারপর অতিথিরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এবারের আড্ডার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কারগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করেছে লন্ডনস্থ পিআর কানেকশনের প্রধান নির্বাহী ইকবাল ফেরদৌস, এবি কার্ড সেন্টার, ফারুখ আহমেদ ও আদিত্য রুপু। 

আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


Copyright @ 2004-2019 MalihaTravels.com. All Right Reserved.